কি জন্য আরিফ জেবতিকও হেনস্থা করা হলো? পিছনের কথা।
আরিফ জেবতিক। বহুমুখী প্রতিভার মানুষ একজন। একসময়কার ডাকসাইটের বিএনপির নামকরা নেতা। প্রথম আলোর আলপিনের সাথে সংশ্লিষ্টও ছিলেন। ক্ষুরধার লিখনী আর সত্য কথা বলার সৎসাহস আরিফ জেবতিক কে সামহোয়্যারইন ব্লগে জুটিয়েছে অসংখ্য ভক্ত। খুব কম ব্লগারই পাওয়া যাবে যে বা যারা আরিফ জেবতিকের বিরুদ্ধে কিছু বলবে। এই আকাশ তুল্য জনপ্রিয়তায় মূলত আরিফ জেবতিকের জন্য কাল হলো।
সামহোয়্যারইনে বেশ কয়েকজন সেলিব্রেটি ব্লগার ছিলো যারা নিজেদেরকে বাংলা ব্লগের লিজেন্ড ভাবতো (সঙ্গত কারনে আপাতত তাদের নাম প্রকাশ করছিনা)। পরবর্তীতে উনাদেরকে ব্লগে রেসিডেন্ট ভাঁড় পদ দিয়ে সম্মানিত করা হয়। তাতে সেলিব্রেটি ব্লগাররা বেশ নাখোশ হয়। তারা মূলত এটার জন্য এটিমকে দায়ী করলেও লোকালটকের নেতৃত্বে নজরদারী করতে লাগলো এটার জন্য মূলত কে দায়ী?
লোকালটক নিয়মিত এ ব্যাপারে কৌশিক, মিলটনের সাথে কথা বলতো। মিলটনের ব্যপারে পরবর্তীতে অনেক কিছুই লিখার ইচ্ছে আছে। রেসিডেন্টরা শুরু থেকেই আরিফ জেবতিককে এটিমের প্রতিষ্টাতা সদস্য হিসাবে মনে করতো। কিন্তু সুনির্দিষ্ট প্রমাণের জন্য নিজেদের মাঝেও কিছু ভেদাভেদ ছিলো বলে সবসময় তারা দ্বিধা-দ্বন্ধে ভুগত। যদিও লোকালটক নিশ্চিত ছিলো জেবতিক এটিমের মেম্বার।
শ্বাশতর ক্যাম্পেইন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কার্যবলীতে জেবতিকের ভূমিকা ছিলো দেখার মতো। যদিও দুঃখজনক হলো একসময় এই মহৎ কার্যাবলীকে কেন্দ্র করে শুরু হয় ব্যক্তিগত ক্রেডিট নেওয়ার চেষ্টা। আমি সরাসরি এটার জন্য দায়ী করবো মিলটনকে। বিস্তারিত লিখবো একদিন।
কৌশিক শুরু থেকেই কিছু অন্তঃদ্বন্ধে ভুগতেছিলো। শ্বাশতরে নিয়া তার বেশ কিছু পোস্টেও সেটা স্পষ্ট। প্রত্যু,মেসবাহ মনে হয় সর্বোস্ব উজার করে দিয়েছিলো। কেমেরাম্যান লাইম-লাইটে আসার একটা চেষ্টায় ছিলো। কিন্তু কোনভাবেই সেটা সম্ভব হয়ে উঠেনি। যায় হোক গোলযোগ হয় যখন সবাই রাজশাহীতে যায় টাকা হস্তান্তরের জন্য। সেখানে অনেক কিছুই ঘটে। ফলে কেমেরাম্যান – কৌশিক তাদের হাতের অস্ত্র পেয়ে যায়। শুরু করে প্রোপাগোন্ডা। তাদের মূল টার্গেট ছিলো জেবতিক এবং মেসবাহ। শুরু হয় শত্রু শত্রু খেলা।
এদিকে জেবতিকের কলমের কি যে হলো একের পর এক ক্ষুরধার লিখনী বের হতে লাগলো। যা ব্লগে ব্যপকভাবে আলোচিত হতে লাগলো। শত্রুর সাফল্যে হিংসায় কাতর হওয়ার যথেষ্ট উদাহরণ মনে হয় এ পৃথিবীতে আছে।
ঐ সময় হাসিবের ব্যান নিয়ে ব্লগে তুলকালাম শুরু হলো। অধিকাংশ ব্লগাররাই তীব্র ক্ষোভে ফেটে উঠে। খুশী হয় কৌশিক, লোকালটকরা। এর মাঝে জেবতিক এ ব্যানের এবং এ ব্যানকে কেন্দ্র করে অন্যান্য ব্যানের প্রতিবাদ করাতে এ ব্লগ আন্দোলন অন্যন্য মাত্রা পায়। ইতিমধ্যে লোকালটক সবাকের একটি পোস্টে জেবতিকের একটি কমেন্টকে কেন্দ্র করে সবাইকে নিশ্চিত করে আরিফ জেবতিক একজন ছদ্মবেশী এটিমের মেম্বার।
জেবতিক এবং সহ ব্লগারদের কেন্দ্র করে যখন ব্লগ চরমভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠে। তখন ব্লগার পত্নীগণ রেসিডেন্টদের চায়ের দাওয়াত দেই। সেইখানে এক ভাঁড় জেবতিকের ব্লগ বাতিলের পক্ষে মতামত দেয়। কিন্তু অন্যান্যরা এর প্রতিক্রিয়া চিন্তা করে তাকে ব্লগ থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করার পক্ষে মত দেয়। ফলশ্রুতিতে শুরু হয় জেবতিকের সাথে ব্যান ব্যান খেলা।
হাসিবকে কেন ব্যান করা হলো। ফোকাসের বাইরে আসল ঘটনা।
সামহোয়্যারইন ব্লগ জন্মলগ্ন থেকেই একটি বিশেষ দলের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত ছিলো। তাদের ধারণা ছিলো ব্লগে যত বিতর্ক হবে তত ব্লগার বাড়বে। হিট বাড়বে। কারণ তখন তারা জানতো সামহোয়্যারইন ব্লগের প্রতিদ্বন্ধী বলে কেউ ছিলোনা। ফলে তারা ফোকাস করেছিলো হিটের উপর। যার ধরুন শুরু থেকেই তারা বিতর্ক উসকে দিতে চেয়েছিলো।
ফলে আরিল পত্নী একের পর এক বিতার্কিক নারী নিক তৈরী করলো এবং উল্টা-পাল্টা পোস্ট দেওয়া শুরু করলো। শুরু হলো ব্লগে হাঙামা। কিন্তু যতটুকু হাঙ্গামা বা হিট যোগ হওয়ার দরকার ছিলো সেইটা হলোনা।
[উল্লেখ্য যে এই সকল বিতর্ক নারী নিকগুলো পোস্ট দিতো রাত ১ টার পরে। তখন প্রবাসী ব্লগার ছিলো প্রচুর। সেই বিতর্কিত পোস্টগুলো সকাল ৯/১০ টা পর্যন্ত ঝুলে থাকতো মডারেটর না থাকার অজুহাতে]
ব্লগে যখন জামাতি তথা শিবিরের আস্ফালন শুরু হলো তখন তারা বরং খুশীই হলো। কারন মেয়ে নিকে বা বিভিন্ন রিভার্সেও তারা তেমন কিছু করতে পারিনি। অন্যদিকে এটিম নাম নিয়ে ব্লগে শুরু হলো জামাত বিরোধীতা। জমে গেলো ব্লগ শুরু হলো হিট। যদি কোনদিন ব্লগের হিট ৮০,০০০ নিচে থাকতো সেদিন আরিলকে দেখা যেতো কফি হাতে পায়চারী করতে। মিটিং করতো বারবার।
প্রথম আলো ব্লগ আসার পরে সামহোয়্যারইন তাদের লক্ষ্যকে কিছুটা পরিবর্তন করলো। তখন ব্লগে হিটের পাশাপাশি ব্লগকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে বেশ কিছু কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করলো।
১। এর মাঝে ছিলো ব্লগের ফান্ড গঠন।
২। ব্লগের ব্লগারদের মনোভাবকে মূল্যায়ন করা।
৩। আমার ব্লগ, সচলায়তন, প্রথম আলো ব্লগের উপর নজরদারী।
৪। তাদেরকে চিহ্নিত করা যারা সামহোয়্যারইনকে অস্থির করে অন্য ব্লগে ব্লগার ছিনিয়ে নেই।
এর মাঝে সামহোয়্যারইনে আশির্বাদ স্বরুপ বেশ কিছু ব্লগারের দেখা পায়। যার মাঝে ছিলো বাবুয়া সহ আরো কয়েকজন রেসিডেন্ট ব্লগার। যেমন কৌশিক, কেমেরাম্যান, লোকালটক।
কেমেরাম্যান নাম দেখে যারা আশ্চর্য হয়েছেন তারা সামনে চোখ রাখুন।
কৌশিক, কেমেরাম্যান ব্লগের রাজা-রাণীর কাছে নিজেদেরকে মূল্যবান রাখতে সর্বদা এটিমের বিরুদ্ধে তথা হাসিব,বিমা,সুশান্ত,রাশেদ,আইজউদ্দিনের সম্পর্কে কানকথায় ভারী করতো।
ঐ সকল রেসিডেন্টরাই পরবর্তিতে কিছু ব্লগারকে সঙ্গীকরে নতুন কিছু নিকের মাধ্যমে এটিমের বিরুদ্ধে লাগে। তখন ব্লগে একের পর এক পোস্ট আসে ব্লগকে কি গালিব্লগ বানিয়ে ফেলা হচ্ছে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি।
এর মাঝে সাপে বর হয়ে আসে বাবুয়াকে নিয়ে হাসিবের জ্বালাময়ী পোস্ট। ফলশ্রুতিতে বাবুয়া ব্যান। তখন বাবুয়া ব্লগপতির বউকে অতিতের বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে ব্যপকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে। সেই সাথে নিজের সম্মানকে ব্লগে ফিরিয়ে আনতে নিজের ব্লগ ফেরত চাই।
আর্থিক সুবিধা এবং অন্যান্য সুবিধার কথা চিন্তা করে ব্লগে কিভাবে বাবুয়াকে ফিরত আনা যায় সেটা নিয়া কর্তৃপক্ষ ব্যাতিব্যস্থ হয়ে যায়। তখন রেসিডেন্ট ব্লগাররা হাসিবকে ব্যান করানোর যুক্তি দেয়। তারা যে সকল যুক্তি দাঁড় করিয়েছিলো -
১। হাসিবের ব্যানকে উপলক্ষ করে হাজার হাজার পোস্ট পড়বে। ফলশ্রুতিতে হিট বাড়বে।
২। আমার ব্লগের হাসিবের শুভাকাঙ্কীরাও সামহোয়্যারইনে ঝাপিয়ে পড়বে ফলে ব্লগ আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।
৩। সাধারণ ব্লগার যারা এটিমের গালাগালির বিপক্ষে তারা খুশী হবে। ব্লগে সুস্থ ধারা ফিরে আসবে। যা অন্যান্য ব্লগ থেকে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।
৪। পরবর্তিতে হাসিবের ব্লগ ফিরিয়ে দেওয়া সহ বাবুয়ার ব্লগও ফেরত দেওয়া হবে।
অন্যদিকে এটিমের কিছু লোকজন ব্লগপত্নীকে গালাগালি করায় রাজা-রাণী দুইজনই এটিমের প্রতি ক্রোধান্বিত ছিলো।
সবশেষে কি হলো সেটাতো আপনেরা জানেনই।
পরবর্তিপর্বে আসছে কি জন্য আরিফ জেবতিকও হেনস্থা করা হলো।
আরিল খ্রিষ্ট্রানের বাচ্চাটাই ইচ্ছে করে ব্লগ নাস্তিকদের প্রমোট করে
এইটার হাজার স্ক্রিণশট আমার কাছে আছে। ধীরে ধীরে সবকিছু দলিল করে ফেলা হচ্ছে। আরিল নিজেরে মহাজ্ঞানী ভাবতাছে। বাংলা ব্লগেস্ফিয়ারের জনক। ালা আবালচুৎ। নাস্তিকরা হাজাররকম গালি দিয়ে পোস্ট দেয় পাচঁ-ছয় দিন চলে যায়। হাজার হাজার নিক অভিযোগ করে। বসে বসে কফি খাস আর মজা দেখিস।
নাস্তিকদের বিরুদ্ধে একটা পোস্ট আসলেই সাথে সাথেই পোস্ট সরিয়ে দিয়ে ব্যান চাস। তোর সমস্ত অপকর্মের নথি রেডি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অনলাইন আইন মজবুত হবে কয়েকদিনের মাঝেই। কমপক্ষে ১০০ টা মামলা খাবি।
নাস্তিকের সঙ্গা শিখে ভালো করে তারপর নাস্তিকদের প্রমোট কর। নাস্তিক মানেই ইসলামের বিরোধিতা করা না। গালাগালি না।
“সবাক” শুয়োরটা কেন এখনো ব্যান হয় নাই?
সবাই ভেবেছিলো “অপ বাক” ট্যাইরাটার সাথে “সবাক” ছাগলটারেও লাত্থি দিয়ে ব্লগে থেকে বের করা হবে।
কিন্তু ছাগলটা এখনো ব্লগে ল্যাদাইতাছে।
অবশেষে “অপ বাক” শুয়োরের বাচ্চা সোয়াইন ফ্লুরে ব্যান করছে সামোর মডারেটর
গতকাল রাত ১:১০ থেকে সাধারণ ব্লগাররা চিল্লাচিল্লি করতেছিলো যেনো “অপ বাক” শুয়োরের বাচ্চারে ব্যান করা হয়।
শেষ পর্যন্ত হিজচুতিয়া মডুরা আজকে বিকেল ৩ টায় ব্যান করছে এই খোদার্খাসী ট্যাইরারে।
যদিও এইটা আরো আগেই করা উচিত ছিলো।
কিন্তু খ্রিষ্ট্রান বাবা আরিল শেষ দেখতে চেয়েছিলো মনে হয়।
এই ব্লগটির উদ্দেশ্য
সামহোয়্যারইনব্লগের বিভিন্ন সম-সাময়িক ঘটনা থেকে শুরু করে অতীতের নোংড়া রাজনীতি, মডারেটরের স্বচ্ছতা, কতৃপক্ষের ভূমিকা, আস্তিক-নাস্তিক ঝগড়া, জামাতি-ছাগুদের দৌড়াত্ন, সাইয়া ব্লগার, একাদিক নিকের অধিকারী সহ অনেক বিষয় এই ব্লগে উঠে আসবে।
